=== আলতাবানু ===

          

                                           

                                                      === আলতাবানু ===




সুখী এক বারো / তেরো বছরের কিশোর। তার জন্ম ছোট এক শহরের বেশ্যা পল্লীতে। মায়ের নাম আলতাবানু। বয়স চল্লিশের কাছা-কাছি হবে। আলতাবানুর বয়স যখন চোদ্দ/পনের তখন তার ঢাকায় কলেজ পড়ুয়া এক যুবকের সংগে বিয়ে হয়। বিয়েটা হয় তাদের নিজেদের সম্মতিতে পালিয়ে। যুবকের বড় ফুপির বাড়ি আলতাবানুদের গ্রামের কোন এক প্রান্তে। ঘুরতে গিয়ে আলতাবানুর সংগে যুবকের চোখের ইশারায় কথা হয় আর এরপর কীভাবে যে আলতাবানু তার প্রেমে পরে বাড়ি ছেরে পালিয়ে আসে তা সে নিজেও বলতে পারে না। যুবক তার নতুন বউ আলতাবানুকে নিয়ে হাজির হয় এই বস্তিতে ( পতিতালয়)। এখানে তারা দু'জন মিলে মাত্র দু'দিনের সংসার পাতে। সংসার জীবনের তৃতীয় দিন সকালে যুবক কাজের কথা বলে বের হয়ে আর বাড়ি ফেরেনি। আস্তে আস্তে আলতাবানু বুঝতে পারে তাকে কোথায় কেনো আনা হয়েছে। আলতাবানু কয়েকদিন খুব কান্না করে তবে সে কান্না কারো কানে পৌঁছায় নি। আলতাবানুর ঘরে যারাই আসে তাদের পা জড়িয়ে বাপ, ভাই ডেকে এখান থেকে মুক্তির করুন আকুতি করে কিন্তু তার সেই আকুতি কারো মনকে কমল করতে পারে না। সবাই কাজ শেষে পাছায় লাথি মেরে চলে যায়। একসময় আলতাবানু তার ভুলের করুণ এই পরিনতি কে স্বাভাবিক ভাবেই মেনে নেয়। জীবনের অনেকটা সময় এই বেশ্যা পাড়ায় কাটিয়ে পৃথিবীর অন্যসব নারীর মতো তারও একসময় ইচ্ছে হয় মা ডাক শোনার। ইচ্ছে হয় নিজের গর্ভে সন্তান ধারন করার স্বাদ নেয়ার। আলতাবানুর এই শখ, ইচ্ছে পূরণ করতেই এই পাড়ায় জন্ম হয় নতুন একটি জীবনের। আলতাবানু শখ করে তার এই সন্তানের নাম রাখে সুখী। সুখী খুব ছোট থেকেই তার যখন বোঝার ক্ষমতা হয়েছে তখন থেকেই তার ঘরে তার মায়ের সংগে বিভিন্ন বয়সী পুরুষদের শুতে দেখেছে। এখন তার বয়সটা ওতো বেশি হয়নি কিন্তু সব কিছু সহ্য করার মতো ক্ষমতা অনেক বড় মানুষের চেয়েও অনেক বড়। হয়তবা বেশ্যা পল্লীর প্রতিটি নতুন জীবনই এরকম সহ্য ক্ষমতা নিয়ে জন্মায়। সুখী কখনো তার মাকে তার পিতার পরিচয় জিজ্ঞাসা করে না। মনে দুঃখ থাকলেও সেটা বুকে চাপা দিয়ে রাখে মাকে বুঝতে দেয় না।

Comments

  1. গল্পটা পড়ে খুব ভাল লাগলো। চোখের কোনে পানি চলে এসেছে। হায়রে সুখী!?!

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

নামের অর্থ হৃদয়বান, মহানুভব