`~` ডায়রি ২১.০৩.২০১৪ `~`
২০১৪ সালের ২০ শে মার্চ বৃহঃপতিবার শোভা জানতে পারে পরের দিন ২১ শে মার্চ
শুক্রবার সকালে জয়ন্ত ঢাকায় আসছে। জয়ন্ত ঢাকায় আসছে খবরটা শোনার পর থেকে
শোভার মনে বসন্তের হাওয়া দোল খেতে থাকে। সে এক অন্যরকম অনুভূতি। জয়ন্তর
সংগে এর আগেও একবার শোভার সাথে দেখা হয়েছিলো তবে সেটা শুধু জয়ন্তর ইচ্ছেতে।
শোভার যে কয়েকজন ভাল বন্ধু আছে জয়ন্ত তাদের মধ্যে অন্যতম। বৃহঃপতিবার
দিনটা শোভার যেন কাটতেই চাচ্ছিল না। জয়ন্তর সংগে দেখা হলে কোন বিষয় নিয়ে
কথা বলবে,জয়ন্তর সংগে দেখা করতে কী শাড়ী পড়ে যাবে, জয়ন্ত কী নীল শাড়ী পছন্দ
করবে! জয়ন্ত ত নীল রং পছন্দ করে না। সে বলে নীল হলো বেদনার রং,জয়ন্ত কে
নিয়ে কোথায় কোথায় ঘুরবে আরো হাজার খানেক প্রশ্ন নিজেকে করতে করতে রাত তখন
১০ টা। জয়ন্ত ফোন করে....শোভা আমি কাল ঢাকায় আসছি ৯৫ ভাগ গ্যারান্টি।
বাকী ৫ ভাগ হিসেব করে শোভা সমীকরণ মিলায় জয়ন্ত ঢাকায় আসছে না। মন টা
খারাপ হলেও শোভা নিজেকে চিন্তা মুক্ত ভাবতে শুরু করে। রাত ১১ টায় জয়ন্ত
আবার ফোন দিয়ে শোভাকে বলে, শোভা আমি ট্রেনে আগামীকাল ভোর ৫ টায়
এ্যায়ারপোর্ট রেল স্টেশনে থাকবো তুমি কী এতো সকালে আসতে পারবে ? শোভা
কিছুক্ষন চুপ থাকার পর বলে হ্যাঁ আসবো তবে ৬ টায়! কিন্তু এই এক ঘন্টা কী
তুমি স্টেশনে অপেক্ষা করতে পারবে? জয়ন্ত বলে সকালে দেখা যাবে এখন ঘুমাবো
শুভ রাত্রি। সকালে দেখা হচ্ছে। ফোন রেখে শোভা দৌড়িয়ে গিয়ে দরজাটা ভিতর
থেকে বন্ধ করে এক বিশাল অট্রহাসি দেয়। হাসি শেষ হতেই দরজায় শোভার বাবা এসে
কড়া নারে শোভা মা কী করিস ? শোভা দরজা খুলে বলে বাবা হাসছিলাম। বাবাও
হাসতে হাসতে বলে কী ব্যাপার আমার মা আজ এতো খুশি ঘটনা টা কী ? না বাবা
তেমন কিছু না তবে আগামীকাল এক বন্ধু আসবে ঢাকায় তাই মন টা ভাল লাগছে,
হাসতে ইচ্ছে করছে। ভাল ত.. কে জয়ন্ত নাকি? কাল কখন দেখা হচ্ছে ? হুম বাবা
কাল সকাল ৫ টায় এ্যায়ারপোর্ট স্টেশনে থাকবে । গাড়ি নিয়ে যাবি? আলম কে ফোন
করে বলে দিবো? না বাবা রিকশায় যাবো টাকা লাগবে না আমার কাছে পর্যাপ্ত
আছে। বাবা এখন যাও ঘুমাবো। পাগলি মেয়ে ঘুম হবে তোর? তুমি চলে গেলেই ঘুম
চলে আসবে বাবা যাও ত। হা হা হা যাচ্ছি মা শুভ রাত্রি। শোভা ঘরের আলো বন্ধ
করে চোখ বুজে ঘুমানোর অনেক চেষ্টা করেও ঘুমাতে পারলো না যদি সকাল ৫ টায়
জাগতে না পারে। বোকা মেয়েটা না ঘুমালেও মোবাইলে ভোর ৫ টার এ্যালার্ম ঠিকই
দিয়ে রেখেছিলো। ২১ শে মার্চ সারাদিন শোভা জয়ন্ত কে সাথে নিয়ে ঘুরে
শোভার বাবা মা শোভাকে খুব বিশ্বাস করতো
শোভা তার বন্ধুকে তাদের বাসায় নিয়ে যায় সেখানেই তার থাকার ব্যবস্থা হয়।
শোভা আর জয়ন্ত খুব ভাল বন্ধু কারো মন কখনো বন্ধুত্বের বাহিরে কিছু ভাবেনি।
রাতে এক ঘরে দু জন মিলে গল্প করতে করতে মধ্যরাত হঠাৎ জয়ন্ত ঘুমিয়ে যায় শোভাও ক্লান্ত হয়ে চোখে ঘুম নেমে আসে
হঠাৎ শোভার ঘুম ভেংগে যায়
শোভার হাতের উপর জয়ন্তর হাত
জয়ন্ত শোভার হাত টেনে নিজের দন্ডমায় পুরুষাঙ্গের উপর রাখে শোভা চুপ করে থাকে সে কী করবে কিছুই বুঝতে পারে না
শোভা হাত সরিয়ে নেয়
মুখ চেপে তার নিজের ঘরে চলে যায়।
পরের দিন সকালে জয়ন্ত শোভাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে
শোভা মুখ কালো করে জয়ন্ত র দিকে তাকায় জয়ন্ত শোভার এমন অবস্থা দেখে গাল
ফুলিয়ে হাসতে থাকে। শোভা জয়ন্ত কে এরকম দুষ্টুমি করতে দেখে হেসে দেয়। জয়ন্ত
বলে দেখেছো এখন কয় টা বাজে আমি সেই সকাল থেকে বসে আছি আংকেলের সংগে
নাস্তাও করে ফেলেছি। আজকে কিছু কেনা কাটা করবো চলো।
শোভা মাথা নেরে বলে ঠিক আছে আমি রেডি হয়ে আসছি।
২২ শে মার্চ সারা দিন দুজন বাহিরে, শপিং মলে ঘুরে, পুরান ঢাকার হাজীর বিরিয়ানি খেয়ে বাসায় ফিরে ঠিক রাতে।
সারাদিন জয়ন্তরর সাথে হেসে খেলে পার করার পর শোভা ভুলেই গেলো গত সেই রাতের কথা।
সে রাতেও দু জন গল্প করছিলো,মুভি দেখছিলো।
শোভা জয়ন্তর চোখে ঘুম দেখে বললো তুমি ঘুমাও আমি ও যাই ঘুৃমাতে।
জয়ন্ত শোভার দিকে তাকিয়ে বলে কালকেই চলে যাবো আর এখন তুমি ঘুমাতে যাবা!
আমি না ঘুমানো পর্যন্ত তুমি যাবা না। দু জন কথা বলতে বলতে একসময় আগের রাতের মতো ই দু'জন ঘুমিয়ে যায়
এই রাতেও শোভারর ঘুম ভাংগে জয়ন্তর তীব্র গরম নিঃশ্বাসে। জয়ন্ত শোভাকে
জরিয়ে শুয়ে আছে শোভা প্রকৃতির নিকট হার মানতে চায় না কিন্তু জয়ন্ত আরো শক্ত
করে শোভাকে জড়িয়ে ধরে। শোভার দেহের নিম্নাংশ হিংস্র প্রানীর মতো স্পর্শ
করতে থাকে শোভা নিজেকে কোন ভাবেই আর নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে হার মানে
প্রকৃতির অদিম নিয়মের কাছে। এরকম অনুভূতি শোভা কখনো পায়নি। জয়ন্ত একসময়
শান্ত হয়ে আসে শোভাকে ছেরে দেয়। শোভা দৌড়িয়ে নিজের ঘরে গিয়ে চোখে,মুখে
পানি দিয়ে আয়নায় তাকায় সে ভয় পেয়ে যায় এইটা কে? আমি ! শোভা ভাবতে থাকে কী
হয়েছে তার।
শোভা দূর্বল হয়ে কোন ভাবে বিছানায় এসে শুয়েছে এরপর সকাল আজও
জয়ন্ত শোভাকে ডাকছে এই শোভা উঠো। এখন বের না হলে যে ট্রেন মিস করবো শোভা
উঠে বসে জয়ন্তর দিকে চেয়ে ভাবতে থাকে জয়ন্ত আমি তোমাকে ভালবাসি । আমি
তোমাকে ভালবাসি।
এরপর জয়ন্ত হাসি মুখে বিদায় নিয়ে চলে যায়। শোভা
স্টেশনে তাকে তুলে দিয়ে আসে এর মাঝে তাদের মধ্যে অনেক কথা হলেও গত রাতের
কথা কেউ তুলে নি কিন্তু শোভা অপেক্ষায় ছিলো জয়ন্ত কিছু বলবে।
ট্রেনের
শেষ হুইস্যাল অবদি শোভা চেয়ে ছিলো জয়ন্তর দিকে জয়ন্ত চলে যায় শোভাকে হাত
নেরে বিদায় জানিয়ে। শোভার চোখের অশ্রু জয়ন্ত দেখতে পায় না, হৃদয়ের
রক্তক্ষরণ জয়ন্ত বুঝতে পারে না। জয়ন্ত বাসায় পৌছিয়ে শোভাকে ফোন দেয় বলে
তোমার মতো বন্ধু আমি কখনো পাইনি। শোভা অপেক্ষায় ছিলো জয়ন্তর মুখ থেকে কিছু
একটা শোনার কিন্তু জয়ন্ত যখন কিছু বলছে না তখন শোভা বলে আমিও কখনো রাত
গুলোর কথা ভুলতে পারবো না জয়ন্ত। জয়ন্ত বলে আমিও না তোমার সাথে রাত জেগে
গল্প, এক সংগে, ঘুরা,খাওয়া কখনো ভুলবো না। এরপর শোভার আর কখনো জয়ন্তরর ফোন
রিসিভ করেনি।
শোভা মনে করে শোভার যেই অন্তর আত্মা তার মৃত্যু হয়েছে সে এখন একা একা একা......
জয়ন্ত এখন সিভিল নিয়ে পড়া শোনা করছে ভবিষ্যৎ এ সে একজন বিশাল দালান তৈরীর
কারিগর হবে। দেশের পড়া শেষ করে যাবে আমেরিকা সেখানে তার পড়ার সকল খরচ
জোগাবে তার হবু বউ আর শোভা হাড়িয়ে গেছে কালের স্রোতে। শোভা কোথায় গিয়েছে,
বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে তার কোন খোঁজ আর কেউ পায়নি।

Comments
Post a Comment